২০০৭ সালের আগস্টে ইউক্রেনের এক বাবা ও ছেলে ভিয়েতনামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছিলেন। পথে অল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে যাত্রাবিরতি করেন তাঁরা। হোটেলে থাকার সময় ছেলে লাভরিক আন্দ্রিতির মনে প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশেই প্রয়োজনীয় সুযোগ থাকায় ভিয়েতনামে যাওয়ার দরকার কী।
ইয়েলো পেজেসে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) একটি বিজ্ঞাপন দেখে তাঁরা বেপজার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। সহযোগিতা পেয়ে ভিয়েতনাম না গিয়ে বাংলাদেশেই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তে নারায়ণগঞ্জের আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় ‘সুপার প্রোটেকটিভ শুজ (প্রাইভেট) লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠানটি এখন বছরে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলারের সামরিক বুট, নিরাপত্তা জুতা ও অন্যান্য বিশেষায়িত জুতা বিশ্বের প্রায় ৬০-৭০টি দেশে রপ্তানি করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেন, জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ। মোট রপ্তানির প্রায় ১০ শতাংশ সামরিক জুতা, যার বেশির ভাগ যায় ইউক্রেনে।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে প্রায় এক হাজার মানুষ কাজ করেন। অর্ডারের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার জোড়া জুতা তৈরি হয়। চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্দ্রিতি জানান, ইউক্রেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাঁদের কার্যালয় রয়েছে। জার্মানিতে একটি বড় গুদাম থেকে বিভিন্ন বাজারে পণ্য সরবরাহ করা হয়।
আগামী দুই বছরের মধ্যে বার্ষিক রপ্তানি ৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দ্রিতি বলেন, বাংলাদেশে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত হালকা সেফটি জুতা তৈরি করা হচ্ছে। নতুন যন্ত্রপাতি চালু হলে দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার জোড়ায় উন্নীত হবে।
জুতায় ব্যবহৃত বেশির ভাগ চামড়া আসে ব্রাজিল, ইউক্রেন, ভারত ও তুরস্ক থেকে। কিছু চামড়া আসে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকেও। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য জায়গা খুঁজছেন তাঁরা, তবে আদমজী ইপিজেডে এখন খালি জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান আন্দ্রিতি।
Reviewed by Admin
on
August 21, 2026
Rating:



