×
×
×

বাধ্যতামূলক অবসর ও বদলি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পুলিশ

বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো, আগের কাজের জন্য শাস্তি পাওয়া এবং বদলি ও পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন পুলিশের অনেক কর্মকর্তা। পরিদর্শক থেকে উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কয়েক ডজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পুলিশের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে এই উদ্বেগ বেশি।

তারা বলছেন, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের রক্ষা করার প্রশ্ন নেই। তবে তাদের ভয়, কোনো কর্মকর্তার পেশাগত সিদ্ধান্ত, আগের পদায়ন বা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ধারণাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিদর্শক বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে এখন দশ বার ভাবতে হয়। সরকার বদলে গেলে কী হবে? জোর করে অবসরে পাঠানো হবে বা পরে শাস্তি দেওয়া হবে কি না—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার চাপ দিচ্ছে। আন্দোলনের সময় পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের হিসাবে ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। আন্দোলনের সময় ও পরে হামলায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। শত শত থানায় ও পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়।

গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর কয়েক ধরনের অপরাধ কমেছে। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের তুলনায় ছিনতাই ও ডাকাতি, হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ এবং চুরির ঘটনা এখনো বেশি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত পুলিশের ১ হাজার ৪৯০ জন সদস্যের নাম এসেছে। এ ছাড়া ১৪১ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। ১৪২ জনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে অথবা অন্যত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। পলায়নের অভিযোগে ৯৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের প্রথম পাঁচ মাসেই অন্তত ৬৭ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ মে ১৭ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, ৫ জুলাই ৩৩ জন এবং ২৩ জুলাই আরও ১৭ জনকে অবসরে পাঠানো হয়।

কয়েকজন উপপরিদর্শক ও সহকারী উপপরিদর্শক বলেন, এসব সিদ্ধান্তে আগের সরকারের সময়ে পুলিশে যোগ দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফৌজদারি মামলা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার আগে প্রকৃত ভূমিকা সব সময় ঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি।

অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম এ অভিযোগ নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

ঘন ঘন বদলি ও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও অস্থিরতা তৈরি করছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলছেন, একজন জেলার পুলিশ সুপারকে স্থানীয় অপরাধের ধরন বুঝতে সময় লাগে। কয়েক মাসের মধ্যেই বদলি করা হলে এসব কাজ ব্যাহত হয়। কর্মকর্তারা ফেনীর পুলিশ সুপারকে নিয়োগের পরপরই সরিয়ে দেওয়া এবং পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বদলি করার উদাহরণ দিয়েছেন।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উমর ফারুক বলেন, বারবার বদলি হলে কর্মকর্তাদের নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়। সাবেক মহাপরিদর্শক আশরাফুল হুদা মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের কাঠামোতে পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়ায় বদলি হওয়া স্বাভাবিক।

পদোন্নতি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে আওয়ামী লীগ সরকার ১৪০ জন পুলিশ সুপারকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেয়। এখন পর্যন্ত মাত্র ২৯ জনকে নিয়মিত পদে নেওয়া হয়েছে। ফলে ১০০ জনের বেশি কর্মকর্তা এখনো নিয়মিত পদায়নের অপেক্ষায় আছেন।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গত ৯ আগস্ট এক বিবৃতিতে জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের যে মনোবল ভেঙে পড়েছিল, তা ধীরে ধীরে ফিরছে। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় পুলিশের পেশাগত সক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়লে জননিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


Source: AI & daily news

বাধ্যতামূলক অবসর ও বদলি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পুলিশ বাধ্যতামূলক অবসর ও বদলি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পুলিশ Reviewed by Admin on August 22, 2026 Rating: 5
Powered by Blogger.