ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে ১৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন মো. ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তাঁর স্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং রেশমার বাবা এ বি এম আবদুর রাজ্জাক (৪৭)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মাহফুজা আক্তার তাঁদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
পুলিশ জানায়, গৃহকর্তা, তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুর মীমের পরিবারকে জানান যে সে এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। পরে তাঁরা মীমের মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মীম প্রায় এক বছর ধরে আসামিদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। এ সময়ে তাঁকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের কথা জানিয়ে মীম যখন কাঁদতে কাঁদতে স্বজনদের ফোন করত, তখন আসামিরা উল্টো তাঁর পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতেন।
গত ১৩ আগস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারকে ফোন করে দাবি করেন, মীম বাসা থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। চার দিন পর ১৭ আগস্ট মীমের পরিবার তাঁর খোঁজে ওই বাসায় যায়। অবস্থান জানতে চাইলে আসামিরা তাঁদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট শাহবাগ থানা পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ২০ আগস্ট বাসাবো বাজার থানা থেকে খবর পেয়ে মীমের মা রাবেয়া বেগম শাহবাগ থানায় যান। পরে তাঁর স্বামী ফজলু মিয়া হাসপাতালে গিয়ে মরদেহটি তাঁদের মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন রাবেয়া বেগম। তদন্তে জানা গেছে, মীমের মৃত্যুর ঘটনা গোপন ও দায় এড়াতে আসামিরা তাঁর মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ফেলে রেখে যান। প্রায় ২০ বছর ধরে সানারপাড়ের যে ফ্ল্যাটে পরিবারটি বসবাস করছিল, সেটি ছেড়ে তাঁরা ডেমরার বামইল এলাকায় আত্মগোপন করেন। শুক্রবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে বামইলে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
Reviewed by Admin
on
August 21, 2026
Rating:



